স্বাধীনতার মাসে স্মৃতিসৌধে হিন্দি গান!
সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অকৃত্রিম ত্যাগের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধের বেদিতে দিনভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও হিন্দি গানের তালে নৃত্য পরিবেশন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশমাতৃকার বিভিন্ন নায্য দাবী আদায়ের সংগ্রামে অকাতরে জীবন বিলিয়ে দেওয়া শহীদদের স্মরণে দেশের নানা স্থানে নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধসহ বিভিন্ন স্মৃতিমূলক স্তম্ভ। এইসব স্মৃতিময় স্থাপনাসমূহ আমাদের সকলের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার স্থান। আবার জাতি হিসেবে আমরা অনেক বেশি আবেগপ্রবণ।
মহান শহীদদের জন্য নির্মিত সৌধে যদি প্রগতিশীলতার নামে পরোক্ষভাবে তাদের অসম্মান করা হয়, তবে সেটা কোন পর্যায়ে পৌঁছায় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গত ২ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে। এতে বেশ কয়েকটি হিন্দি গান পরিবেশন করা হয় এবং হিন্দি গানের তালে নৃত্য পরিবেশনও চলে। আবার দুপুরের দিকে এই অনুষ্ঠানে একাত্মতা প্রকাশ করতে আসা নবনিযুক্ত একজন শিক্ষক জুতা পরেই বেদিতে গান পরিবেশন করতে উঠেন। পরে একজন শিক্ষার্থী উনার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জুতা খুলেন। বিভিন্ন প্রগতিশীল শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা অবাক হয়েছেন স্বাধীনতার মাসে স্মৃতিসৌধের মতো শ্রদ্ধার স্থানে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুমতি দিলেন! শুধু তাই নয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিসৌধ যেন পরিণত হয়েছে প্রেমিক যুগলের অভয়ারণ্য আড্ডাখানায়! জুতা-সেন্ডেল পরেই বেদিতে উঠে চলে আড্ডা আর অনৈতিক কর্মকান্ড। এসব নিত্তনৈমত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেও চলত শিক্ষার্থীদের জন্মদিন পালনের মহোৎসব। কিন্তু প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশ্য কিছুদিন যাবৎ তা বন্ধ হয়েছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মানার্থে নির্মিত সৌধে এরূপ কর্মকান্ড চলাতে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে আলোচনা করছিলাম আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান পরিষদের একজন সদস্যের সাথে। তিনি উত্তর দিলেন, স্মৃতিসৌধ একটি পবিত্র স্থান। কোনো অনুষ্ঠান পালন কিংবা আড্ডাখানার স্থান এটি নয়। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বীরত্বের প্রতীক স্বরূপ এটি নির্মিত হয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এইরূপ কর্মকান্ড বন্ধের জন্য দাবি জানাব। বিষয়টি নিয়ে কথা বলছিলাম একজন আনসার সদস্যের সাথে। প্রশ্ন করতেই তিনি আশেপাশে তাকিয়ে (কেউ আছে কিনা দেখার জন্য) বলেন, মামা কি আর বলব! এইটা একটা নিত্যদিনের কাজ। মুখ থাকলেও কিছুই বলতে পারিনা। চোখ দিয়ে দেখেও না দেখার ভান করে থাকতে হয়। ওদের কর্মকান্ড দেখে অনেক লজ্জা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এখানে আসে। বাইরের লোকজনও এখানে আসে। কিছু বললেই হুমকি, আর অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। এজন্য চুপচাপ থাকায় নিরাপদ মনে করি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনার পাশাপাশি অবস্থিত। অনেক দর্শনার্থী ক্যাম্পাসভিত্তিক বড় শহীদ মিনারটি দেখতে ভিড় করে। অনেক দর্শনার্থী না জেনে জুতা-সেন্ডেল পরে বেদিতে উঠে যায়। বিশেষ দিবস সমূহে এইসব স্থাপনায় কেউ যেন জুতা-সেন্ডেল পরে উঠতে না পারে সে জন্য কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়। অথচ দিবস শেষ হলেই আবার জুতা-সেন্ডেল পরে বিচরণ বা আড্ডা দিতে দেখা যায় সর্বসাধারণকে। কেবলমাত্র বিশেষ দিন আসলেই ধোয়ামোছা আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে দেখা যায়। শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণে নির্মিত এই স্থাপনাসমূহের পবিত্রতা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করছি।
