হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান বাড়াও দাম কমাও।
দেশের অন্যতম শীর্ষ এবং প্রাচীন নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইডেন মহিলা কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং সাধারণ পরিবারের হাজার হাজার ছাত্রী বসবাস করেন। পড়ালেখার পাশাপাশি তারা হলের ক্যান্টিনের খাবারের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বর্তমানে হলের ক্যান্টিনগুলোতে খাবারের মান একেবারেই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ক্যান্টিনের খাবারে কোনো প্রকার পুষ্টিগুণ তো নেই-ই, বরং অনেক সময়ই বাসি খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। প্রায়ই খাবারে মাছি, পোকা বা চুল পাওয়ার মতো নোংরা ঘটনা ঘটছে, যা ছাত্রীদের স্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীই এই খাবার খেয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, খাবারের মান খারাপ হলেও, কোনো প্রকার যৌক্তিক কারণ বা পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করেই খাবারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাজারদরের দোহাই দিয়ে ক্যান্টিন পরিচালনাকারীরা সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছেমতো একেকটি খাবারের দাম সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে নিয়ে গেছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে প্রতি মাসে এই বাড়তি খরচের বোঝা বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। খাবারের মান নিয়ে বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কোনো সাধারণ ছাত্রী কথা বলতে গেলে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের চরম অসদাচরণ দেখতে হয়। একটি সরকারি কলেজের আবাসিক হলে কোনো তদারকি ছাড়া এভাবে ইচ্ছেমতো খাবারের দাম বাড়ানো এবং নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হলে শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য ও মানসিক শান্তি সবার আগে প্রয়োজন। ইডেন মহিলা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কলেজ প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আবেদন অনতিবিলম্বে হলের ক্যান্টিনগুলোর ওপর প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধি করুন। খাবারের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা এবং কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি ছাড়া বাড়ানো বর্ধিত মূল্য দ্রুত কমিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার জন্য কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
লেখক পরিচিতিঃ-
নামঃ মিথিলা জসিম তন্নি।
বিভাগঃ বাংলা।
শিক্ষার্থী,ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা।
মোবাইলঃ 01614510294
ইমেইলঃ mithilajasim@gmail.com
