শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজার

Author

বাপ্পাদিত্য চৌধুরী প্রবাল , মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পাঠ: ১১৬ বার

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজার

উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু একটি সনদ অর্জন নয়। সেই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত হওয়াও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্যারিয়ার নিয়ে একটি মৌলিক প্রশ্ন থাকে যায় ‘এরপরের ধাপ কী?’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষায় অন্যতম বৃহৎ একটি পাবলিক প্রতিষ্ঠান। এর অধিভুক্ত দুই হাজারের বেশি কলেজে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত এই শিক্ষাব্যবস্থা দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে। কিন্তু একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ক্যারিয়ার নিয়ে নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক দিকনির্দেশনার সুযোগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই বললেই চলে। একজন শিক্ষার্থী তার নিদিষ্ট বিষয় নিয়ে পড়ছেন, পরীক্ষা দিচ্ছেন, ফলাফল পাচ্ছেন। কিন্তু সেই বিষয় পড়ার পর সম্ভাব্য কর্মক্ষেত্র কী, কোন দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন, কীভাবে CV তৈরি করতে হয়, চাকরির সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হয়, কোথায় ইন্টার্নশিপ বা প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য কখন থেকে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। শুধু নিজ উদ্যোগে তথ্য খুঁজে নেওয়ার ওপর একজন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নির্ভর করা উচিত নয়। বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু ডিগ্রি যথেষ্ট নয়। যোগাযোগ দক্ষতা, ইংরেজি, কম্পিউটার ও ডিজিটাল দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং পেশাগত আচরণও গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও এ প্রয়োজনীয়তা নতুন নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের সঙ্গে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে Career Development, Entrepreneurship ও Digital Literacy বিষয়ে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অধিভুক্ত কলেজে Career Center প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষকদের Career Advisor হিসেবে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনার কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত ও স্থায়ী রূপ দেওয়া এখন জরুরি। প্রতিটি অধিভুক্ত কলেজে একটি Career Guidance Cell থাকা জরুরি। সেখানে একজন প্রশিক্ষিত শিক্ষক Career Advisor হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। শিক্ষার্থীরা সেখানে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, CV তৈরি, চাকরির প্রস্তুতি, ইন্টার্নশিপ, স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে পরামর্শ পাবেন। পাশাপাশি নিয়মিত ক্যারিয়ার কর্মশালা এবং বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে মতবিনিময়ের আয়োজনও প্রয়োজন। এর পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয়ভাবে একটি Career Development Platform থাকা জরুরি। সেখানে চাকরি, ইন্টার্নশিপ, প্রশিক্ষণ, স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষার নির্ভরযোগ্য তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজারের কাজ কোনো শিক্ষার্থীর হয়ে পেশা নির্বাচন করা নয়। তাঁর দায়িত্ব হবে শিক্ষার্থীর সামনে থাকা সম্ভাব্য পথ, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং প্রস্তুতির বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শিক্ষার্থী নিজেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার গাইডেন্স কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; এটি উচ্চশিক্ষার একটি প্রয়োজনীয় অংশ। একজন শিক্ষার্থী যেন স্নাতক শেষ করার পর প্রথমবার ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে বাধ্য না হন। বরং প্রথম বর্ষ থেকেই তিনি জানবেন কোন পথে যেতে চান এবং সেই পথে যেতে কী কী প্রস্তুতি প্রয়োজন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে। এখন সেই শিক্ষাকে কর্মজীবনের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা জরুরি। প্রতিটি অধিভুক্ত কলেজে কার্যকর Career Cell এবং প্রশিক্ষিত Career Advisor চালু করা তাই আর বিলাসিতা নয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সময়ের জরুরি দাবি।
লেখক: সাধারণ সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দৈনিক দিনকাল পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।