বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

নদী ভাঙ্গনে গৃহহীন, ঈদ শুধুই আরেকটি দিন

Author

হাবিব আল মিসবাহ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫ পাঠ: ৩৫ বার

নদী মানুষের জীবিকা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু যখন নদী তার স্বাভাবিক গতি পরিবর্তন করে, তখন তা হয়ে ওঠে ভয়াবহ দুর্যোগের কারণ। নদী ভাঙন শুধু জমি ও বসতভিটা কেড়ে নেয় না বরং কেড়ে নেয় মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও জীবনযাপনের স্বাভাবিক ধারা। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছর নদী ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। যাদের একসময় ছিল নিজের ঘর, ভিটে-মাটি, জমি। তারা আজ নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।

নদী ভাঙনের শিকার মানুষদের কষ্ট শুধু আশ্রয়হীনতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জীবিকার পথ হারিয়ে তারা চরম দারিদ্র্যের মুখোমুখি হয়। অনেকেই দিনমজুরের কাজ করতে বাধ্য হয়, আবার কেউ শহরে গিয়ে রিকশা বা ভ্যান চালিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে। অথচ একসময় তারা ছিল কৃষক, মৎস্যজীবী কিংবা ছোটখাটো ব্যবসায়ী। নদীর এক ঝাঁকুনিতেই তাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনির তিন শতাধিক পরিবারের দুর্দশা –

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের তিন শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এমনই এক কঠিন বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। একসময় যারা ছিল সচ্ছল, নদীর ভাঙনে তারা আজ নিঃস্ব। বসতভিটা হারিয়ে কেউ বাঁধের স্ল্যাবে দিন কাটাচ্ছে, কেউ অন্যের উঠানে আশ্রয় নিয়েছে, কেউ বা কোনো অস্থায়ী ঝুপড়ির নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সরকারি আশ্রয় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে কিন্তু তা সবার জন্য যথেষ্ট হয়নি। ফলে অনেকেই এখনো স্থায়ী ঠিকানার অপেক্ষায় দিন গুনছে।

প্রতিবছর বর্ষার সময় নদীর পানি বাড়লে তাদের আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। রাতে ঘুমানোর সময় মনে প্রশ্ন জাগে কাল যদি এই অস্থায়ী আশ্রয়টুকুও নদী গিলে ফেলে। বৃষ্টি আসলে ছিন্নভিন্ন পলিথিনের নিচে কষ্ট আরও তীব্র হয়। আর শীতের সময় খোলা জায়গায় থাকাটা হয়ে ওঠে অসহনীয়।

 

কেমন চলছে তাদের ঈদ প্রস্তুতি?

দেশজুড়ে যখন ঈদের প্রস্তুতি চলছে, নতুন জামা-কাপড় কেনা হচ্ছে, খাবারের আয়োজন করা হচ্ছে, তখন সাতক্ষীরার এই তিন শতাধিক পরিবারে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। ঈদ তাদের কাছে আরেকটি সাধারণ দিনের মতোই, যেখানে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

নদী ভাঙনে নিঃস্ব হওয়া এসব মানুষের পক্ষে ঈদের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থাও অনিশ্চিত। অনেক শিশু ঈদের নতুন জামার কথা বললে তাদের মা-বাবার চোখে জল এসে যায়, কারণ তারা জানে, তাদের সাধ্যের বাইরে এই ছোট্ট চাওয়াটা পূরণ করা।

কেউ কেউ সামান্য কিছু সহায়তা পায়, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। কিছু বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ হলেও তা দিয়ে কি বছরের পর বছর চলে? ঈদ কেবল একদিনের উৎসব নয়, এটি জীবনের আনন্দের প্রতীক। কিন্তু এই পরিবারগুলোর জন্য ঈদ যেন শুধুই আরেকটি দুঃখের দিন হয়ে দাঁড়ায়।

সমাধানের পথ কী?

এই সমস্যার সমাধান শুধু ত্রাণ দিয়ে সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া নদী ভাঙনের শিকার এসব মানুষদের দুর্ভোগ শেষ হবে না। নদীশাসন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, এবং বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে।

সরকারের আশ্রয় প্রকল্প বাস্তবায়ন চলমান থাকলেও তা যেন দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। শুধু অস্থায়ী ঘর নয়, বরং এমন পুনর্বাসন প্রকল্প দরকার যেখানে এই মানুষগুলো স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে। তাছাড়া স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত যাতে প্রতি বছর নতুন করে কেউ গৃহহীন না হয়।

 

ঈদ হোক সবার জন্য

ঈদ মানে শুধু নিজের জন্য নতুন পোশাক, ভালো খাবার কিংবা আনন্দ নয় বরং এটি একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর সময়ও। আমাদের সমাজের বিত্তবানদের উচিত এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো। অন্তত ঈদের এই আনন্দময় মুহূর্তে তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া যাতে তারা একটু হলেও স্বস্তি পায়।

আমরা সবাই মিলে তাদের পাশে দাঁড়াই, যেন ঈদের দিনেও কেউ ক্ষুধার্ত না থাকে, কেউ কান্না চাপা দিয়ে শিশুকে বোঝাতে না হয় যে এবারও নতুন জামা কেনা সম্ভব হয়নি। ঈদের খুশি সবার জন্যই সমান হোক এটাই হোক আমাদের চাওয়া।

 

হাবিব আল মিসবাহ

শিক্ষার্থী: আল-কুরআন এণ্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

মেইল: hmh42242@gmail.com

 

লেখক: দপ্তর সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ৩০ মার্চ ২০২৫ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।