বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার ফি বনাম বাস্তবতা 

Author

বাপ্পাদিত্য চৌধুরী প্রবাল , মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ পাঠ: ৬৬ বার

 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার ফি বনাম বাস্তবতা 

উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য শুধুমাত্র একটি সনদ অর্জন নয়। বরং একজন শিক্ষার্থীকে জ্ঞান, দক্ষতা, গবেষণামনস্কতা ও নেতৃত্বের গুণাবলিতে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য অর্জনে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি সেমিনার, কর্মশালা, গবেষণা কার্যক্রম, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এবং বিশেষজ্ঞদের গাইডলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসব কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজন করা হয়, কারণ শ্রেণিকক্ষে শেখানো তত্ত্বকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হলো সেমিনার। বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রাইভেট-পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও মাসিক অথবা সাপ্তাহিক সেমিনার কার্যক্রম হয়। কিন্তু দেশের সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অনেক শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা বলছে, একাডেমিক উন্নয়নের নামে সেমিনার ফি নেওয়া হলেও বাস্তবে তারা কাঙ্ক্ষিত সেমিনারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত । জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশের দুই হাজারের অধিক কলেজ এবং প্রায়ন ৩৪ লক্ষ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজগুলো প্রত্যেক সেশনে ভর্তি ও অন্যান্য একাডেমিক ফির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেমিনার ফিও আদায় করা হয়। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ খাতে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাও স্বাভাবিক, তারা নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা কিংবা একাডেমিক আলোচনা সভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। শিক্ষার্থীদের চার বছরের স্নাতক জীবন শেষ হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো সেমিনারে অংশ নেওয়ার সুযোগ তাদের হয়নি। কোথাও হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে এক-দুটি অনুষ্ঠান হয়েছে, কিন্তু তা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত বা কার্যকর ছিল না। অবশ্য কিছু কলেজে প্রশংসনীয় উদ্যোগও দেখা যায়, যেখানে শিক্ষক ও প্রশাসনের আন্তরিকতায় নিয়মিত সেমিনার আয়োজন করা হয়। কিন্তু এমন উদাহরণ এখনও ব্যতিক্রম।
একটি সেমিনার শিক্ষার্থীর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা অনেকে উপলব্ধি করেন না। একজন গবেষক যখন তাঁর গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, একজন উদ্যোক্তা যখন কর্মজীবনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন কিংবা কোনো বিশেষজ্ঞ যখন নতুন প্রযুক্তি বা নতুন গবেষণার দিক তুলে ধরেন, তখন শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরের বাস্তব জগত সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। এতে তাদের চিন্তার পরিধি বাড়ে, নতুন বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও সুস্পষ্ট হয়। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে এমন অভিজ্ঞতা একজন শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ও পেশাগত প্রস্তুতিকে অনেক এগিয়ে দেয়। বর্তমান বিশ্বে শুধু ভালো ফলাফল চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না। যোগাযোগ দক্ষতা, উপস্থাপনা, গবেষণার প্রাথমিক ধারণা, সমালোচনামূলক চিন্তা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং পেশাগত নেটওয়ার্ক তৈরির মতো দক্ষতা সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব দক্ষতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো সেমিনার ও কর্মশালা। তাই সেমিনার ফি প্রদানের পরও যদি শিক্ষার্থীরা এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এই ফি উওোলনের উদ্দেশ্য কী এবং এর ব্যবহার কোথায়? সেমিনার ফি বাবদ আদায় করা অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, বছরে কতটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে, কতজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন এবং কী ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব তথ্য শিক্ষার্থীদের জানার অধিকার রয়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের আস্থা বাড়ে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাসও দৃঢ় হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ। তাদের একাডেমিক দক্ষতা বৃদ্ধি ছাড়া জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনও সম্ভব নয়। তাই সেমিনার ফি যেন কেবল হিসাবের খাতায় সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণামুখী মানসিকতা সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। একাডেমিক উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন সেমিনার ফি কেবল রসিদের একটি সংখ্যা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির বাস্তব বিনিয়োগে পরিণত হবে।
লেখক: সাধারণ সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।