বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম বর্তমান সময়ের তরুণদের লেখালেখি এবং সৃষ্টিশীল চিন্তার বিকাশে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। ‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে সংগঠনটি দেশজুড়ে তরুণ লেখক ও কলামিস্ট তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।
২০১৮ সালের ২৩ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন উদ্যমী শিক্ষার্থীর হাত ধরে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীল লেখনীর অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে গঠনমূলক মতামত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।
এই ফোরামের কার্যক্রম মূলত কয়েকটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে:
সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণ: যারা লিখতে চান কিন্তু সাহস পাচ্ছেন না, তাদের খুঁজে বের করা।
প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা: কলাম বা ফিচার লেখার নিয়মাবলি, শব্দচয়ন এবং কৌশল নিয়ে নিয়মিত কর্মশালার আয়োজন করা।
পত্রিকায় প্রকাশে সহায়তা: তরুণদের মানসম্মত লেখাগুলো জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশের ক্ষেত্রে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করা।
বই প্রকাশ: প্রতি বছর অমর একুশে বইমেলায় সদস্যদের লেখা নিয়ে যৌথ বা একক গ্রন্থ প্রকাশ করা।
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের নেটওয়ার্ক বেশ বিস্তৃত:
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদ: পুরো সংগঠনের নীতি নির্ধারণ ও পরিচালনা করে।
শাখা ইউনিট: দেশের প্রায় সব বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় (যেমন: ঢাবি, জাবি, রাবি, চবি), সরকারি কলেজ এবং জেলা পর্যায়ে এদের শক্তিশালী শাখা রয়েছে।
সদস্যপদ: সাধারণত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এই সংগঠনের সদস্য হতে পারেন।
ফোরামটি বছরজুড়ে বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের সাথে যুক্ত থাকে:
বর্ষসেরা লেখক পুরস্কার: প্রতি বছর দক্ষ লেখকদের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
সাহিত্য আড্ডা ও সেমিনার: খ্যাতিমান কলামিস্ট ও সাংবাদিকদের সাথে তরুণদের মতবিনিময় সভার আয়োজন।
অনলাইন ও অফলাইন প্রতিযোগিতা: প্রবন্ধ লিখন ও কলাম লিখন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধার যাচাই।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে গঠনমূলক ও তথ্যনির্ভর লেখালেখির চর্চা কমে যাচ্ছে। এই ফোরাম তরুণদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। একজন কলাম লেখক হিসেবে সমাজের অসংগতি তুলে ধরা এবং সমাধানের পথ বাতলে দেওয়ার যে চর্চা, সেটি এই প্ল্যাটফর্মটি খুব চমৎকারভাবে পরিচালনা করছে।