ঢাকা কলেজে বেওয়ারিশ কুকুর: সমাধান জরুরি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ার কথা জ্ঞানচর্চা, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কেন্দ্র। কিন্তু ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে যদি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
ক্যাম্পাসে কুকুরের অনিয়ন্ত্রিত বিচরণ, রাতের বেলা ঘন ঘন ডাকাডাকি এবং শিক্ষার্থীদের দিকে তেড়ে আসার মতো ঘটনা তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে রাতে একা হলে ফেরার সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগজনক। এর ফলে পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো সময় কুকুরের কামড়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।
তবে এই সমস্যার সমাধান কুকুর নিধন নয়; বরং প্রয়োজন পরিকল্পিত, মানবিক ও বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ। ঢাকা কলেজ প্রশাসনের উচিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্যাম্পাসের কুকুরগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জলাতঙ্কের টিকাদান এবং প্রয়োজনে বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা। পাশাপাশি আক্রমণাত্মক আচরণ করা কুকুরগুলোর বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নিরাপদ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতের বেলা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোও জরুরি। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে খাবারের উচ্ছিষ্ট সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে, যাতে কুকুরের অনিয়ন্ত্রিত সমাগম কমানো যায়।
মনে রাখতে হবে, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ, তবে সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে এর ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব। কোনো কুকুর কামড়ালে বা আঁচড় দিলে ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করবে এটি তাদের ন্যায্য প্রত্যাশা। একই সঙ্গে প্রাণীদের প্রতিও আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। তাই আতঙ্ক নয়, অবহেলা নয়; প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং প্রাণীদের প্রতি মানবিক আচরণ দুটিই নিশ্চিত করেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
– হাফিজুর রহমান,শিক্ষার্থী – রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ (DCU)
