বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

জীবন অমূল্য, আত্মহত্যা নয় শেষ পথ

Author

সানজিদা আফরিন মেঘলা , চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ পাঠ: ২৭ বার

জীবন অমূল্য, আত্মহত্যা নয় শেষ পথ

জীবনে দুঃসময় আসতেই পারে। কখনো ব্যর্থতা, কখনো প্রিয়জনের অবহেলা, কখনো পারিবারিক অশান্তি, আবার কখনো অর্থনৈতিক সংকট বা পড়াশোনা ও কর্মজীবনের চাপ মানুষকে ভীষণভাবে ভেঙে দেয়। এমন সময়ে অনেকেই মনে করেন, আর কোনো পথ নেই, সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়; বরং এটি একটি সাময়িক কষ্টের স্থায়ী পরিণতি। যে সমস্যাকে আজ অতিক্রম করা অসম্ভব মনে হচ্ছে, সেটিও সময়, সহায়তা এবং সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বদলে যেতে পারে।
প্রতিটি মানুষের জীবনই অমূল্য। একজন মানুষের অস্তিত্ব শুধু তার নিজের জন্য নয়, তার পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একজনের চলে যাওয়া শুধু একটি জীবন শেষ করে না, বরং বহু মানুষের জীবনে গভীর শূন্যতা, অপরাধবোধ, দুঃখ এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাত তৈরি করে। তাই কোনো কঠিন মুহূর্তে আবেগের বশে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, যা আর ফিরিয়ে আনা যায় না। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে অন্ধকার থাকলেও আলো ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে। ইতিহাসে এমন অসংখ্য মানুষ আছেন, যারা জীবনের কঠিন সময় অতিক্রম করে পরবর্তীতে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন। তাই একটি খারাপ সময় কখনো পুরো জীবনের পরিচয় হতে পারে না।অনেক সময় মানুষ নিজের কষ্ট কাউকে বলতে পারে না। লজ্জা, ভয়, সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা “আমাকে কেউ বুঝবে না” এই ধারণা মানুষকে আরও একা করে তোলে। অথচ কথা বলা অনেক বড় সহায়তা হতে পারে। বিশ্বাসের মানুষ, পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা শিক্ষকের সঙ্গে মন খুলে কথা বললে অনেক সময় ভেতরের চাপ অনেকটাই কমে যায়। শুধু শোনা, বোঝা এবং পাশে থাকা—এই ছোট্ট মানবিক আচরণও একজন বিপর্যস্ত মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। একজন মানুষের প্রতি সামান্য সহমর্মিতা, একটি আন্তরিক কথা কিংবা একটি সাহায্যের হাত অনেক সময় একটি জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্যও শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর হলে যেমন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হয়, তেমনি মন খারাপ, বিষণ্নতা, অতিরিক্ত উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা, একাকীত্ব বা আত্মহত্যার চিন্তা দেখা দিলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া জরুরি। অনেকেই মনে করেন, মানসিক সমস্যার জন্য সাহায্য চাওয়া দুর্বলতার লক্ষণ। আসলে এটি সাহসের পরিচয়। নিজের কষ্ট স্বীকার করে সহায়তা নেওয়া মানে নিজেকে বাঁচানোর প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া। সঠিক পরামর্শ, থেরাপি, প্রয়োজনে চিকিৎসা এবং পরিবারের সমর্থন একজন মানুষকে আবার নতুনভাবে বাঁচার শক্তি দিতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া মানে নিজের জীবনকে গুরুত্ব দেওয়া।
আমাদের সমাজে এখনো মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা যথেষ্ট নয়। অনেক পরিবারে বিষণ্নতা বা মানসিক চাপকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না; বরং “এত ভাবার কী আছে”, “মন শক্ত করো” বা “এগুলো কিছু না” বলে সমস্যাকে ছোট করে দেখা হয়। কিন্তু এমন আচরণ বিপদ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আমাদের উচিত সহানুভূতিশীল হওয়া, বিচার না করা এবং কারও কষ্টকে অবহেলা না করা। কেউ যদি বারবার নিরাশা প্রকাশ করে, নিজেকে গুটিয়ে নেয়, হঠাৎ আচরণ বদলে ফেলে বা জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তাহলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। সময়মতো সহায়তা অনেক বড় বিপদ ঠেকাতে পারে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। মনে রাখতে হবে, আত্মহত্যার চিন্তা কখনোই দুর্বলতার প্রমাণ নয়; এটি গভীর কষ্টের একটি সংকেত। তাই এমন পরিস্থিতিতে কাউকে একা ফেলে রাখা উচিত নয়। পরিবারের সদস্যদের উচিত খেয়াল রাখা, বন্ধুরা উচিত যোগাযোগ বজায় রাখা, আর সমাজের উচিত নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা। স্কুল, কলেজ, কর্মস্থল এবং পরিবার—সব জায়গায় মানসিক সুস্থতা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মানুষ যেন বুঝতে পারে, সাহায্য চাওয়া লজ্জার নয়, বরং বাঁচার উপায়। জীবন আমাদের জন্য এক অমূল্য উপহার, যার প্রতিটি মুহূর্তের মূল্য রয়েছে।

আসুন, আমরা সবাই এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে কেউ কষ্টে একা অনুভব করবে না। যেখানে মানুষ নিজের সমস্যার কথা নির্ভয়ে বলতে পারবে, আর অন্যরা তাকে অবহেলা না করে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। জীবন কঠিন হতে পারে, কিন্তু তা শেষ হয়ে যায় না। আশা, ধৈর্য, ভালোবাসা এবং সঠিক সহায়তা নিয়ে প্রতিটি অন্ধকারের পরেই নতুন সকাল আসে। তাই আত্মহত্যা নয়—আশা, সাহস, সহমর্মিতা এবং জীবনের প্রতি বিশ্বাসই হোক আমাদের পথ। কারণ প্রতিটি জীবন মূল্যবান, প্রতিটি মানুষ গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিটি নতুন দিন নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে।

লেখক
সানজিদা আফরিন মেঘলা
অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ।

লেখক: কার্যনির্বাহী সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে আজকালকের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।