বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

সংস্কৃতির কোনো সীমান্ত নেই, বন্ধুত্বের নেই কোনো ভাষা

Author

শ্রী গৌরাঙ্গ উংকুর সরকার , সরকারি বাঙলা কলেজ , মিরপুর, ঢাকা

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ পাঠ: ৭৩ বার

“সংস্কৃতির কোনো সীমান্ত নেই, বন্ধুত্বের নেই কোনো ভাষা।”—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে সরকারি বাঙলা কলেজে অনুষ্ঠিত হলো এক ‘আন্তর্জাতিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি -২০২৫’। জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় সবুজ পৃথিবী গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই মূল কর্মসূচির পাশাপাশি ফুটে ওঠে বাংলাদেশ ও নেপালের তরুণদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।

বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব ও মূল কর্মসূচি

পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সেই তাগিদ থেকেই দুই দেশের তরুণ লিও সদস্যরা ক্যাম্পাসে যৌথভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরিবেশ সচেতনতার এই বার্তা ছড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লিও আন্দোলনের মাধ্যমে দুই দেশের সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

 

কৃষ্টির আদান-প্রদান: ‘ঢাকা টুপি’ পরিধান

অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল নেপালের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের উপহার প্রদান ও তা পরিধান। নেপালি লিও প্রতিনিধি কিরণ কিশোর বাংলাদেশ ও নেপালের আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে ‘লিও ক্লাব অব গভর্নমেন্ট বাঙলা কলেজ’-এর তৎকালীন সভাপতি নূর মোহাম্মদ খান (২০২৫–২৬), তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি, তরুণ শিক্ষার্থী সৈকত রায় সহ ক্লাবের অন্য সদস্যদের নেপালের বিশ্বখ্যাত ঐতিহ্যবাহী “ঢাকা টুপি” উপহার দেন এবং সবাই তা পরিধান করে এই সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান উদযাপন করেন।

বাঙলা কলেজের তরুণ শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই সম্মান গ্রহণ ও টুপি পরিধানের ঘটনাকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রদ্ধাবোধের এক সুন্দর প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

অতিথিদের বক্তব্য

অধ্যক্ষ কামরুল হাসান স্যার :

“পরিবেশ সুরক্ষার মতো বৈশ্বিক প্রয়োজনে তরুণদের এই বৃক্ষরোপণ উদ্যোগ ও মেলবন্ধন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই ধরনের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান আমাদের শিক্ষার্থীদের উদার মানসিকতা গঠন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের উপস্থাপন করতে উদ্বুদ্ধ করবে।”

উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মিটুল চৌধুরী ম্যাম :

“জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে বৃক্ষরোপণের মতো মহতী উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নেপালের ঐতিহ্যবাহী ‘ঢাকা টুপি’ পরিধানের মাধ্যমে দুই দেশের সংস্কৃতির যে আদান-প্রদান ঘটেছে, তা আমাদের শিক্ষার্থীদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক মৈত্রীর বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে দারুণ ভূমিকা রাখবে।”

নেপালি প্রতিনিধি লিও কিরণ কিশোর:

“‘ঢাকা টুপি’ কেবল একটি পোশাক বা উপহার নয়, এটি নেপালের ঐতিহ্য ও ভালোবাসার অন্যতম প্রতীক। বাংলাদেশের আন্তরিক আতিথেয়তা এবং এদেশের ঐতিহ্যের প্রতি গভীর সম্মান জানিয়ে এই স্মারক তুলে দিতে ও সবাইকে তা পরিধান করতে দেখে আমি অত্যন্ত গর্বিত।”

উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও সংগঠক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন:

লিও আরমান হোসেন — লিও প্রধান, লিও জেলা ৩১৫এ১ বাংলাদেশ (২০২৫–২৬);

মো. মোরসালিন খান — উপদেষ্টা, লিও ক্লাব অব গভর্নমেন্ট বাঙলা কলেজ;

নূর মোহাম্মদ খান — তৎকালীন ক্লাব সভাপতি ।

সরকারি বাঙলা কলেজের সম্মানীয় উপাধ্যক্ষ মহোদয়া এবং ক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

উপস্থিত অতিথিরা উল্লেখ করেন, পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণের মতো মহতী উদ্যোগের পাশাপাশি এই ঐতিহ্যবাহী ‘ঢাকা টুপি’ হস্তান্তর ও পরিধান কেবল উপহারের লেনদেন নয়—এটি দুই দেশের কৃষ্টি, সম্প্রীতি এবং আন্তর্জাতিক লিও আন্দোলনের মূল চেতনাকেই বহন করে।

লেখক: লিও সৈকত রায় ও শ্রী গৌরাঙ্গ উংকুর সরকার

সরকারি বাঙলা কলেজ, মিরপুর ( শিক্ষার্থী),

লিও ক্লাব অব গভার্নমেন্ট বাঙলা ( সাধারণ সদস্য)

লেখক: সাধারণ সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।