বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

সন্দেহের বশে কাউকে হত্যার অধিকার কারো নেই

Author

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (কুষ্টিয়া-৭০০৩)

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৯ পাঠ: ৪৬ বার

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ
নিতান্তই সামান্য এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটছে নৃশংস আর গা শিউরে উঠার মত সব হত্যাকাণ্ড।  রাস্তা-ঘাটে, জনসম্মুখে শুধু সন্দেহের বশে অথবা পছন্দ হচ্ছেনা বলে কাউকে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার মত অরণ্যের অরাজকতা দিনদিন বেড়েই চলছে।  এই বর্বরদশা কাউকে বিশ্লেষণ করে বুঝানোর দরকার নেই। 
২০১২ সালের ডিসেম্বরে, ১৮ দলীয় জোটের সরকার বিরোধী অবরোধ কর্মসূচির কর্মী সন্দেহে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্বজিৎ দাস নামের এক দর্জিকে দিনে-দুপুরে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে এবং চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে ৮-১২ জনের একটি মৃত্যুকামী দল।
২০১৫ সালের জুলাই মাসে সিলেটে ১৩ বছর বয়সী শিশু সবজি বিক্রেতা রাজনকে চুরির সন্দেহে খুটির সাথে বেঁধে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।  এসব আলোচিত প্রত্যেকটি ঘটনায় বেশ তোলপাড় হয় দেশজুড়ে।  ঘটনার হোতাদের বড় একটা অংশকে বিচারের সম্মুখীনও করা হয়েছে। তবুও এমনসব দুঃসহ এবং মর্মান্তিক ঘটনা কিন্তু থেমে নেই।অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আমরা অন্ধকারের যুগে পুনরায় প্রত্যাবর্তন করছি।  আইন আছে, এসব ঘটনায় দোষীদের যে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না এমটাও নয়,তবুও কোন সংকটের কারণে বারবার সংঘটিত হচ্ছে এমন মধ্যযুগীয় বর্বরতা?
এক্ষেত্রে মূল সংকট কেবল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা প্রশাসনিক নয়।  কিংবা ব্যর্থতা নিছক গণতন্ত্রেরও নয়; বরং এখানে মূল সংকটটি হচ্ছে মানবিকতার, বিবেকহীনতার।  কোন শক্ত ব্যমো যেমন নানারকম আভাস নিয়ে উপস্থিতির জানান দেয়, তেমনি বাঙালির বিবেকহীনতাও  বহুবিধ ব্যর্থতা নিয়ে বিশ্বময় প্রচার পাচ্ছে।
হাজারো বিবেকহীন সন্ত্রাসী যেমন প্রকাশ্যে মানুষ খুন, টেন্ডার বাজি, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল দখল, রাস্তার গাছ কাটা, নদী দখল, বন দখল আর জমি দখলের রাজত্ব কায়েম করছে, তেমনি সাধারণ জনগণও পিছিয়ে নেই বিবেকবর্জিত  কর্মকান্ডে। নিছক সন্দেহের বশে নিরীহ মানুষ পিটিয়ে হত্যার মত পৈশাচিক এবং বর্বর কাজ করতেও তারা একবার ভাবছেনা।  যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ২০১১ সালের জুলাইয়ে শবে বরাতের রাত্রে সাভারের আমিন বাজারে ৬ জন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রকে ডাকাত সন্দেহে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা এবং চলতি বছরের জুলাই মাসে রাজধানীর বাড্ডায় রেনুকে ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা।
কোন সমাজে বাস করছি আমরা? কয়েকজন মিলে পিটুনি দিচ্ছে, কেউ কেউ ভীড় করে পিটুনি দেওয়া দেখছে,কেউ আরো মার আরো মার বলে উৎসাহ দিচ্ছে, আবার কেউ মনের আনন্দে ছেলেধরার পিটুনি দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও করছে ! 
এ কেমন বিবেকহীনতা? এরা প্রত্যেকেই খুনি।  এরা সুযোগ পাচ্ছিলোনা তাই মারেনি।  ছেলেধরা সন্দেহে রেনুকে মেরে এরা যে আনন্দ পেতো, সুযোগ না পাওয়ায় সেই আনন্দ উসুল করেছে পিটুনি দেওয়া দেখে, উৎসাহ দিয়ে এবং ভিডিও ধারণ করে।  এরা প্রত্যেকেই বিকারগ্রস্ত আর নর্দমার কীটের মত।  এদের দিয়ে সমাজের ক্ষতি ছাড়া কোন লাভ নেই।
এমন বিবেকহীন কাজ কোন সভ্য দেশের সভ্য জাতিতে করতে পারেনা।কিন্তু বাংলাদেশে বাঙালিরা বারবার করছে।  সাম্প্রতিক সময়ে বুয়েটের ছাত্র ‘আবরার’ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তা আবার প্রমাণিত হলো।
কারো উপর সন্দেহ হলেই তাকে মেরে ফেলতে হবে? এমন অধিকার তো কারো নেই।  শুধু সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কাউকে হত্যা করার অধিকার খোদ রাষ্ট্রেরও নেই।  সন্দেহ যদি সঠিকও হয় তবুও তো বিনা বিচারে আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা যায় না।  তার অপরাধ যদি দণ্ডনীয় অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে তার যথার্থ শাস্তি বাংলাদেশ দন্ডবিধিতে রয়েছে।  কারোর উপর সন্দেহ হলেই যদি তাকে হত্যা করে ফেলা হবে এবং সেই দায়িত্ব যদি সাধারণ জনগণই পালন করবে, তাহলে বিপুল রাজস্ব ব্যয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পালনের কি কাজ? আইন- আদালত কেন আছে? 
এই চর্চা প্রতিনিয়ত চলতে থাকলে ধীরে ধীরে বিচারহীনতার সংস্কৃতিই হবে বঙ্গীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।  সন্দেহের বশবর্তী হয়ে সংঘটিত এ হত্যার ঘটনা আইন, ধর্ম এবং মানবিকতার পরিপন্থী।  তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হস্তে দেশের যে কোন স্থানে সংঘটিত বর্বর এই ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
লেখকঃ শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
লেখক: সভাপতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৫ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।