বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

ব্যক্তিগত গাড়িতে সাইরেনের ব্যবহার

Author

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (কুষ্টিয়া-৭০০৩)

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯ পাঠ: ৪৪ বার

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ
আমরা শব্দ যন্ত্রণায় জর্জরিত।  পুরো দেশে শব্দদূষণের মাত্রা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।  শহরগুলোর অবস্থা আরো করুণ।  রাস্তার পাশের বাড়ি-ঘর, অফিস- আদালতে বসবাস করা রীতিমতো দুঃসহ হয়ে পড়েছে।  যানবাহনের হর্ণ, নানা অনুষ্ঠানের পটকাবাজি, লটারির টিকিট, বৈদ্যুতিক বাল্ব, কসমেটিকসহ এধরনের বিভিন্ন দ্রব্য বিক্রির গাড়ির সাথে ব্যবহৃত মাইকের শব্দে মানুষ দিশেহারা। 
সাম্প্রতিক সময়ে এসব দূষণের সাথে নতুন মাত্রায় যোগ হয়েছে দামী গাড়ি চড়ে সাইরেন বা হুটার বাজানো তথাকথিত নব্য ভিআইপিদের তৎপরতা।  স্বঘোষিত এই নব্য ভিআইপিরা রাষ্ট্রীয় কোন পদ- পদবীতে না থাকলেও প্রভাবশালীদের আত্নীয় অথবা ক্ষমতাসীন দলে নিজের ছোটখাটো দলীয় পদের পরিচয় ভাঙিয়ে রাস্তায় উচ্চ শব্দে সাইরেন যুক্ত গাড়ি হাকিয়ে শব্দ সন্ত্রাসবাদ কায়েম করে চলেছে।  এরা গাড়ি ছাড়াও মোটরসাইকেলেও এখন সাইরেন লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
আগে সাইরেন ব্যবহার করা হত অ্যাম্বুলেন্স,  ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, পুলিশের পিকআপসহ অতি প্রয়োজনীয় ও জরুরী কাজে নিয়োজিত বিশেষ কিছু সরকারি গাড়িতে।  সেই সময়টাতে সাইরেনের শব্দ শুনলে মনে হত কোথাও আগুন লাগার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি জান- মাল রক্ষায় দ্রুত ছুটে যাচ্ছে, অথবা কোন দূর্ঘটনা স্থলে পুলিশ যাচ্ছে কিংবা অ্যাম্বুলেন্স মুমূর্ষু রোগী বহন করছে।  যার ফলে যে যেই অবস্থায় থাকুক না কেন, রাস্তা থেকে অন্য পরিবহন সরিয়ে ঐসকল পরিবহন কে  দ্রুত চলাচলের সুযোগ করে দিতো।  অথচ এই বিশেষ হর্ণ এখন সরকারি আমলাদের কালো রঙা দানব গোছের প্রতিটি গাড়িসহ অসংখ্য সাধারণ গাড়িতে দেখা যাচ্ছে।  দেশে সাইরেন যুক্ত গাড়ির সংখ্যা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সারাদেশ যেন ‘সাইরেন বাদ্যযন্ত্রের’ ওপেন এয়ার কনসার্টে পরিণত হয়েছে।  ক্ষমতার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সাইরেন বাজিয়ে ভিআইপি জানান দেওয়ার এই সংখ্যা এখন বাংলাদেশে অগণিত। 
যেখানে ব্রিটেনের মত দেশে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিআইপি সুবিধা প্রাপ্ত ব্যক্তির সংখ্যা মাত্র ৮৪ জন।  ফ্রান্সে এই সংখ্যা ১০৯ জন, জাপানে ১২৫ জন এবং আমেরিকায় ২৫২ জন।  ১৩৭ কোটি মানুষের দেশ চীনে ভিআইপি সুবিধা প্রাপ্ত ব্যক্তি মাত্র ৪৩৫ জন।  এত অল্প সংখ্যক ভিআইপি থাকা সত্ত্বেও উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে খোদ মন্ত্রীসহ অন্যান্য ভিআইপিরা তাঁদের গাড়িতে সাইরেন বাজান না।  কারণ এই সাইরেন সংস্কৃতি একদিকে যেমন মারাত্মক শব্দদূষণ ঘটায়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের সময়ের গুরুত্বকেও অবজ্ঞা করে। 
বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশে উল্টো পথে চলা বা সাইরেন বাজিয়ে রাস্তা ফাঁকা করে কোন ভিআইপি চলাচল অনুমোদিত নয়।  শুধু মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় রাস্তার একপাশ ফাঁকা করে চলাচলের বিধান রয়েছে।  তবুও সেক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ারসার্ভিসকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।  কিন্তু আমাদের দেশের স্বঘোষিত এই নব্য ভিআইপিরা রাস্তাঘাটে ট্রাফিকদের মনঃসংযোগ করতে বা সামনের গাড়ি থেকে সহজে সাইড পাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধার আশায় এবং উল্টো পথে চলাচলের সুবিধা নিতে ব্যক্তিগত গাড়িতে সাইরেন সংযোজন করছেন।
একারণে গুরুত্বপূর্ণ গাড়ির হর্ণের সাথে ব্যক্তিগত গাড়ির হর্ণ মিলে যাচ্ছে।  বড় বড় শহরে জ্যামে আটকে থাকা অ্যাম্বুলেন্স ক্রমাগত সাইরেন দিয়ে যাচ্ছে।  আবার পাশের প্যাসেঞ্জারবাহী রেঞ্জারও একই হর্ণ বাজাচ্ছে।  পুলিশের পিকআপও ওই একই হর্ণ দিচ্ছে।  কি আজব তামাশা! সবার হর্ণ একই রকম।  ফলে সাইড দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ এবং গণপরিবহনের চালকদের। 
কিন্তু সাইরেন তথা এই গুরুত্বপূর্ণ হর্ণ কি যে কোন গাড়িতে বাজানো যায়? কিংবা এই হর্ণ ব্যবহার করার অনুমতি আছে কোন গাড়িগুলোর? 
আবার আমাদের দেশের জরুরী যানবাহন তথা পুলিশ- র‍্যাবের পিকআপ, অ্যাম্বুলেন্স ইত্যাদি যানবাহনের জন্য ৮ – ১০ ধরনের শব্দযুক্ত সাইরেন নির্ধারিত থাকলেও সবাই প্রায় একই রকম সাইরেন বাজিয়ে চলাচল করছে।
এভাবে আর কতকাল? এভাবে হেয়ালি পনা চলতে থাকলে এবং গুরুত্বপূর্ণ যানবাহনের হর্ণ যেখানে – সেখানে বাজতে থাকলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষদের মধ্যে সচেতনতা বোধটুকু আর আশা করা যাবে না।  ফলস্বরূপ ফায়ার সার্ভিস, পুলিশের পিকআপ এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ গাড়ির সেবাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 
সাইরেন হর্ণের যথাযথ ব্যবহার সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে।  তাহলেই সাইরেনের গুরুত্ব বুঝে শব্দদূষণ কমানো, মূল্যবান সময় বাঁচানো সহ আমাদের দেশকে আরো গতিশীল করা সম্ভব হবে। 
লেখকঃ  শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।  
লেখক: সভাপতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।